ঢাকা, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় পূনরায় উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

২৪ ঘন্টা খবর বিডি

স্টাফ রিপোর্টার


প্রকাশিত: ১০:২২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২১
শেয়ার করুনঃ

মোঃসেলিম খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধিঃ

খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় পূনরায় উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

গত ৬ নভেম্বর দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে ১৪ নভেম্বর (শনিবার) বিতর্কিত, বিবাহিত ও অছাত্রদের দিয়ে প্রেস কমিটি প্রদান করে তৎকালীন খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি টেকু চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজ বলে অভিযোগ উপজেলা ছাত্রলীগের (একাংশ) নেতা-কর্মীদের।

এদিকে উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের পর থেকেই প্রেস কমিটি বিলুপ্তির দাবীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশ।

১৫ নভেম্বর (রবিবার) সকালে দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় হতে বিক্ষোভ সমাবেশ বের হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে লারমা স্কোয়ারের সামনে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। তবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মধ্য হতে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঐদিনই দীঘিনালায় ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয় উপজেলা আওয়ামীলীগ।

এদিকে গত ৪ঠা জানুয়ারি একইদিনে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের ডাক দেয় ছাত্রলীগের দু’পক্ষ। উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী মোঃ কাশেম সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গত ৬ জানুয়ারি (বুধবার) ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মাঝে পুনরায় সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে দাবী দুপক্ষেরই। হামলার শিকার হয় গত ৬ নভেম্বর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও দৈনিক খবরপত্র পত্রিকায় দীঘিনালা প্রতিনিধি মোঃ নূর হোসেনও।

এরূপ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দীঘিনালা উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে পুনরায় সম্মেলন করে কমিটি গঠনের দাবী নেতাকর্মীদের।

সাবেক কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মোঃ ফজলুল হক হৃদয় বলেন, অ-ছাত্র, বিবাহিত ও চাকরিচ্যুতদের দিয়ে উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের প্রেস কমিটি দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ। এরপর থেকেই দীঘিনালায় অশান্তি বিরাজ করছে। আমি এ কমিটি বিলুপ্ত করে পুনরায় সম্মেলন করে কমিটি গঠনের জোর দাবী জানাচ্ছি।

মেরুং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, নিজেদের মধ্যে বিভাজন না করে সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা উচিৎ। বিবাহিত ও অ-ছাত্রদেরকে বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হোক।

দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবলু কুমার দে বলেন, উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগেরতো বর্তমানে কোন কমিটি-ই নাই। আমার দাবী হলো সম্মেলনের মাধ্যমে তৃনমূল নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করে বিবাহিত ও অ-ছাত্রদের বাদ দিয়ে একটি কমিটি উপহার দেওয়া হোক।

দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ মেহেদী আলম বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করার ক্ষমতা উপজেলা আওয়ামীলীগের নাই। দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে কোন বিবাহিত কিংবা অ-ছাত্র নেই। কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রলীগের নির্দেশে আমরা এগিয়ে যাবো।

খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক অভিক মোহন ত্রিপুরা বলেন, যেহেতু ১৬ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচন সেহেতু আমাদের প্রধান কাজ হলো নৌকার পক্ষে কাজ করা। পৌর নির্বাচনের পর এ বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে সবার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।এসময় সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।