ঢাকা, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি

হাবু ভাইকে বিদেশ পাঠানোর সময় সবাই হাউমাউ করে কেঁদেছি’

২৪ ঘন্টা খবর বিডি

স্টাফ রিপোর্টার


প্রকাশিত: ১০:৫০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২১
শেয়ার করুনঃ

সময়ের জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’। এর প্রতিটি পর্ব নিয়েই দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে। বিশেষ করে তরুণরাই এই নাটকের প্রধান দর্শক। সেই দর্শকপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে প্রতিনিয়তই নিত্য নতুন চরিত্র ও অনুষঙ্গ আসে নাটকটিতে, আবার চলেও যায়। কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত তুমুল জনপ্রিয় এ ধারাবাহিকটির কাবিলা, শুভ, হাবু ভাই, পাশা ভাই নামের চরিত্রগুলোও যেনো দর্শকদের কাছে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

এবার ধারবাহিকটি থেকে বিদায় হচ্ছেন হাবু ভাই চরিত্রটি। যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন চাষী আলম। নাটকটির শুরু থেকেই অন্যতম মূখ্য চরিত্র হয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন ‘হাবু ভাই’। নাটকটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘হাবু ভাই’ চরিত্রটিও দর্শকদের কাছে আপন হয়ে উঠে।

শুরু থেকেই নাটকের গল্পে কাতার যাওয়ার স্বপ্ন থাকে তার। এবার সেই স্বপ্নই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। হাবুকে পাঠানো হচ্ছে কাতারে। মানে আগামীতে হাবু চরিত্রটিকে আর নাটকটিতে দেখা যাবে না। এমনটিই বলছিলেন, নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি।

হাবুর কাতারে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নাটকটির গল্ট অন্যদিকে মোড় ঘুরে । যে নাটকটি দেখে এতোদিন দর্শকরা হু হু করে হেসেছেন, কাবিলা, শুভ, হাবু ভাই ও পাশা ভাইয়ের কথায় অন্যরকম বিনোদিত হয়েছেন। সে নাটকটি দেখেই এবার দর্শকদের চোখে পানি চলে আসবে। শুধু যে পর্দায় এমনটি ঘটবে তা কিন্তু নয়। পরিচালক অমি জানালেন, হাবু ভাইয়ের কাতার চলে যাওয়ার দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়েও হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে।

অমি বলেন, ‘আমরা যখন বিমানবন্দরে হাবু ভাইয়ের কাতারে যাওয়ার দৃ্শ্যের শুটিং করছিলাম। তখন সবার চোখেই পানি চলে আসছিলো। বিশ্বাস করেন আমাদের কোনো অভিনেতারই মেকি কান্না কাঁদতে হয়নি। সবাই রিয়েল কান্নাই কাঁদছিলেন। তাকে বিদায জানানোর সময় ইউনিটের সবাই হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। আমাদের সবার কান্না দেখে উপস্থিত অনেক যাত্রীরাও কাঁদছিলেন। বিমান বন্দরে অনেক ফরেনারদেরও কাঁদতে দেখেছি সে সময়। কঠিন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণ হয়েছিলো যা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।’

এতো কান্নকাটির করে হাবু ভাইকে কাতার না পাটালেও পারতেন, তাকে নাটক থেকে বিদায় করারই বা দরকার ছিলো কি? এমন প্রশ্ন রাখলে অমির বলেন, ‘হাবু ভাই কাতার যাচ্ছেন জীবিকার সন্ধ্যানে। জীবন ধারণের জন্য অর্থের দরকার। সেই অর্থ আয়ের জন্যই তার কাতার যাওয়া। আর নাটকে তাকে আর দেখানো হবে না কেনো যদি প্রশ্ন করেন তাহলে বলবো এটা কিন্তু ব্যাচেলর থাকা একদল মানুষের গল্প। বাস্তব জীবনেও কিন্তু এমন গল্প আমার-আপনার জীবনে ঘটে। আমরা যারা একসঙ্গে ব্যাচেলর থাকি তারা কিন্তু সারা জীবন একসঙ্গে থাকি না। জীবিকার তাগিদে, পরিবারের তাগিদে আমাদের আলাদা হতে হয়। ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকের ব্যাচেলরদের জীবনের গল্পও তো এর বাইরে নয়। ‘

এর আগে তুমুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও সিরিজটির দুই চরিত্র নেহাল ও আরেফিন- দুই চরিত্রে অভিনয় করা করেছিলেন তৌসিফ মাহবুব ও শামীম হাসান সরকারকে বিদায় জানানো হয়। তাদের বিদায় হওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে সে সময় অমি বলেন, ‘গল্পের প্রয়োজনে তাদের সরিয়ে নিয়েছি। আমাদের স্কুল এবং কলেজ জীবনে যে ফ্রেন্ডগুলো থাকে তাদের সঙ্গে কি সারা জীবন একসঙ্গে থাকা হয় না। একটা সময়ে দেখা যায়- খুব ক্লোজ ফ্রেন্ডদের সঙ্গেও যোগাযোগ থাকে না। আবার হুট করে একদিন যোগাযোগ হয়। এমনটি তো নাটকের ক্ষেত্রেও হতে পারে।’

নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল হক পলাশ (কাবিলা ), মিশু সাব্বির ( শুভ) , চাষী আলম ( হাবু ) সাবিলা নূর (নাবিলা), মারজুক রাসেল (পাশা ), সঞ্জনা সরকার রিয়া (রিয়া), মনিরা মিঠু (শিরিন) ।

M